ঈদুল ফিতর ২০২২ কত তারিখ | ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত | ঈদুল ফিতর ২০২২

 আসসালামু আলাইকুম।ঈদ অর্থ খুসি, ঈদ মানে আনন্দ । মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ২ টি । তার মধ্যে একটি হল ঈদুল ফিতর । দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের আনন্দের দিন এই ঈদুল ফিতর ২০২২।   সবাইকে ঈদুল ফিতর ২০২২ এর অগ্রিম শুভেচ্ছা , ঈদ মোবারক ।আসা করি সবাই ভাল আছেন । আজকে ঈদ কবে ২০২২ সম্পর্কে জানব এবং বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর ২০২২ কবে সেটিও জানার চেষ্টা করব।  

আপনার মনে যদি এই প্রশ্নগুলো আসে যে ঈদুল ফিতর ২০২২ কবে , ঈদুল ফিতর ২০২২ বাংলা কত তারিখ , ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত ,  ঈদুল ফিতর ২০২২ কত তারিখ , তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।


ঈদুল ফিতর ২০২২ কত তারিখ |  ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত | ঈদুল ফিতর ২০২২
ঈদুল ফিতর ২০২২ কত তারিখ |  ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত | ঈদুল ফিতর ২০২২

ঈদুল ফিতর ২০২২

ঈদুল ফিতর ২০২২ কবে এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। আসলে ঈদুল ফিতর  রমজানের রুজার ওপর নির্ভর করে। হিজরি মাসগুলো সাধারনত ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। তাই শিওরভাবে বলা অসম্ভব কবে হতে পারে ঈদুল ফিতর ২০২২ ।তবে আমরা সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আপনাদের জানানর চেষ্টা করব।

ঈদুল ফিতর ২০২২ কত তারিখ

পবিত্র রমজান মাসের পরেই অর্থাৎ শাওয়াল মাসের ১ তারিখ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বেশ কিছু বসর ধরে ২৯ দিনে রমজান মাস শেষ হচ্ছে। কিন্তু এবার ৩০ দিনে শেষ হতে পারে। যদি রোজা ২৯ টি হয় তবে ঈদুল ফিতর ২০২২ আগামি  ২রা  মে তারিখ পালিত হবে। আর যদি রুজা ৩০টি হয় তবে আগামি ৩ই মে ঈদুল ফিতর ২০২২ পালিত হবে ইনশাল্লাহ। 
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে 30 দিনে রমজান মাস শেষ হবে।সেই হিসেবে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশেও ৩০ দিনের রমজান মাস হতে চলেছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে ঈদুল ফিতর ২০২২ পালিত হবে ইনশাল্লাহ ৩রা মে ।যদিও এই বিষয়টি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নিরদেশনার ওপর নির্ভরশীল। 


রোজার ঈদ ২০২২ কবে

ধারনা করা হচ্ছে আগামি ৩রা মে রোজার ঈদ ২০২২ পালিত হবে যদিও বিষয়টি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ঈদুল ফিতরের নামাজ হল ওয়াজিব। অর্থাৎ অবশ্যই পালন করতে হবে। এই দিন আল্লাহ তাআলা সকল রোজাদার বান্দাদের গুনাহ মাফ করে নিষ্পাপ শিশুর ন্যায় বানিয়ে দিবেন সুবহানাল্লাহ। 
রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গেলেন, তখন সেখানে জাহেলি যুগ থেকে প্রচলিত দু’টি উৎসবের দিন ছিল; ‘নওরোজ’ এবং  ‘ মেহেরজান’।রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, এই দুই দিন কীসের? সাহাবিরা বললেন, জাহেলি যুগ থেকে আমরা এই দুই দিন খেলাধুলা ও আনন্দ করি। রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ এই দুই দিনের বদলে তোমাদের নতুন দু’টি উৎসবের দিন দিয়েছেন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (মুসনাদে আহমদ ১৩০৫৮)।

হজরত আউস আল আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ফেরেশতারা রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন এবং মুসলমানদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, হে মুসলমানগণ!তোমরা দয়ালু প্রতিপালকের দিকে এগিয়ে এসো। উত্তম প্রতিদান এবং সাওয়াব-প্রাপ্তির জন্য এগিয়ে এসো। তোমাদের রাত্রিবেলার নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তোমরা সে নির্দেশ মেনে নামাজ পড়েছো। তোমাদের দিনে রোজা রাখতে বলা হয়েছিল, তোমরা সে নির্দেশও পালন করেছো, এক মাস রোজা রেখেছো। গরিব দুঃখীদের আহার করানোর মাধ্যমে নিজের প্রতিপালককে তোমরা আহার করিয়েছো। এখন নামাজ পড়ে এসব পুণ্যকর্মের প্রতিদান ও পুরস্কার গ্রহণ করো।


ঈদুল ফিতরের নামাজ ২০২২

বান্দার সকল কাজ তার নিয়তের উপর নিভরশিল। তাই আমাদের যে নিয়ত মুখে উচ্চারন করে বলতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। জিনি বাংলা নিইয়ত পারেণ তিনি বাংলা নিয়ত করবেন আর যিনি আরবি নিয়ত জানেণ তিনি আরবি নিয়ত করবেন।
রোজার ঈদের নিয়ত (আরবি)
নাওয়াইতুআন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকয়াতা সালাতি ঈদিল ফিতইর, মায়া ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
ঈদুল ফিতরের বাংলা নিয়ত
আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সহিত এই ইমামের পিছনে আদায় করতেছি কিবলামুখি হয়ে আল্লাহু আকবার।


ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম


রোজার ঈদ ২০২২ এর দিন গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হল ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ পরা। নিচে রোজার ঈদ ২০২২ এর নিয়ম দেওয়া হলঃ
  • প্রথমে নিয়ত করে আল্লাহু আকবার বলে তাকবিরে তাহরিমা বাধতে হবে। তারপর ছানা পরতে হবে । ছানাঃসুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
  • এরপর অতিরিক্ত ৩(তিন) তাকবির দিতে হবে। রোজার ঈদ ২০২২ সবাই এই  বিষয়টি বুল করেন। তাই তাদের জন্য বলসি প্রথম ২ তাকবিরে কান পর্যন্ত হাত তুলে ছেড়ে দিবেন। তৃতীয় তাকবিরে হাত বাধবেন। 
  • তারপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতেহার পর একটি সূরা মিলাবেন ইমাম সাহেব। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে হবে। এবার বিসমিল্লাহ বলার পর সূরা ফাতেহা পড়ে আরেকটি সূরা মেলাবেন ইমাম সাহেব।
  • এরপর আবার অতিরিক্ত ৩ তাকবির হবে। তাকবির শেষে হাত ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থ তাকবিরের সময় রুকুতে চলে জেতে হবে।
  • তারপর সাধারন নামাজের মত নামাজ শেষ করতে হবে এবং নামাজ শেষে খুতবাহ শুনতে হবে মনোযোগ সহকারে। তারপর ঈদগাহ ত্যাগ করতে হবে।

ঈদের আরেকটি আবশ্যিক আমল হলো সদকাতুল ফিতর। ক্ষমাপ্রাপ্তির খুশিতে এবং রমজানে কৃত আমলের ত্রুটি দূর করতে মুসলমানরা সদকাতুল ফিতর আদায় করে। সামর্থ্যবান ও সচ্ছল মুসলমানদের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

আরও জানুনঃ
























Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
Post-by: Admin-Sobnews